ভোট শেষ না হওয়া পর্যন্ত ব্যালট বাক্স পাহারা দেবেন: তারেক রহমান
এনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, এবার সকালবেলা ভোট কেন্দ্রে গেলে হবে না। ভোর বেলায় যেতে হবে। তাহাজ্জুদের নামাজ পড়ে ভোটকেন্দ্রের সামনে যাবেন। সেখানে গিয়ে সবাই একত্রিত হয়ে ফজরের জামাত আদায় করবেন। কেউ যেন ষড়যন্ত্র করতে না পারে সেজন্য ভোট শেষ না হওয়া পর্যন্ত ব্যালট বাক্স পাহারা দেবেন। রোববার রাত ৯টার দিকে কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম হাইস্কুল মাঠে আয়োজিত সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। তারেক রহমান বলেন, ৫ আগস্টে একটি পরিবর্তনের পর মানুষ অনেক প্রত্যাশা করছে। তাদের প্রত্যাশা পূরণে কাজ করতে হবে। আমরা ক্ষমতায় গেলে মানুষকে ফ্যামিলি কার্ড দেব। কৃষকদেরকে কৃষি কার্ড দেব। বেকার এবং তরুণ সমাজকে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করব। মসজিদের ইমাম-খতিব মুয়াজ্জিনদেরকে ভাতা এবং প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করব। |
তিনি বলেন, আমরা জানি এ অঞ্চলটি হচ্ছে বাংলাদেশের সবজি ভান্ডার। আবার অনেক তরুণ এবং যুবক বেকার রয়েছে। বিএনপি আল্লাহর রহমতে কয়েকবার দেশ পরিচালনা করেছে। দেশ পরিচালনার অভিজ্ঞতা বিএনপির রয়েছে। বিএনপি দেশ নিয়ে যে পরিকল্পনা করে তা কিভাবে বাস্তবায়ন করতে হয় সেটা বিএনপির জানা আছে। বিএনপি জানে কিভাবে পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে হয়।
তারেক রহমান বলেন, আমরা বলেছি ক্ষমতায় গেলে মা-বোনদের সহযোগিতার জন্য প্রত্যেকটি ঘরে ঘরে ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দেব। আমরা সে কথা বলিনি যে ফ্যামিলির সবকিছু আমরা দেব। আমরা বলেছি ধীরে ধীরে মানুষের চাহিদা পূরণ করব। নির্বাচিত একটা সরকারের মেয়াদ থাকে পাঁচ বছর। আমরা চেষ্টা করব মা বোনদের কাছে এই ফ্যামিলি কার্ডটা কিভাবে দ্রুত পৌঁছে দেওয়া যায়।
একটি দলের সমালোচনা করে তিনি বলেন, যারা আমাদের সমালোচনা করছে তাদের তো দেশ চালানোর অভিজ্ঞতা নেই। তাই তারা আবোল-তাবোল কথা বলছে। আমরা কৃষক ভাইদের পাশে দাঁড়াতে চাই। তারা বলছে এটা নাকি আমরা ধোঁকা দিচ্ছি। আমি যদি ধোঁকা দিই তাহলে তো পরেরবার আপনারা আমাকে বিশ্বাস করবেন না। আমার তো রাজনীতি করতে হবে। তাই কথা দিয়ে কথা রাখার জন্য আমাকে চেষ্টা করতে হবে। আমি যদি জবান দিয়ে জবান না রাখি তখন আপনারা আমাকে বলতে পারবেন। আমরা কৃষক কার্ডের মাধ্যমে সার বীজ অন্যান্য কৃষি সামগ্রী কৃষকদের কাছে পৌঁছে দেব।
বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, ১২ ফেব্রুয়ারি বিএনপির বিজয় লাভ করলে ইনশাআল্লাহ দেশের প্রতিটি এলাকায় খাল খনন শুরু করব। আমরা সরকার গঠন করতে পারলে চৌদ্দগ্রামে এসে খাল খনন উদ্বোধন করব।
বেকারদের নিয়ে পরিকল্পনার কথা জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, বেকারদেরকে আমরা বিভিন্ন প্রশিক্ষণ দিতে চাই। এই প্রশিক্ষণ নিয়ে যেন দেশ-বিদেশে তারা ভালো চাকরি পেতে পারে। এই এলাকার অধিকাংশ মানুষ মধ্যপ্রাচ্যে যান। আমরা যদি একটা ট্রেনিং সেন্টার করে দিয়ে বিভিন্ন কাজের প্রশিক্ষণ এবং বিভিন্ন দেশের ভাষা শিক্ষা দিতে পারি তাহলে বিদেশে গিয়ে আমাদের যুবকরা ভালো কর্মসংস্থান পাবে। আমরা এভাবে দেশের প্রত্যেকটি অঞ্চলে কর্মসংস্থান সৃষ্টির পদক্ষেপ গ্রহণ করবো।
তিনি বলেন, এই রাজনৈতিক মঞ্চে দাঁড়িয়ে ইচ্ছা করলে আমি আমাদের প্রতিপক্ষের তুমুল সমালোচনা করতে পারতাম। কিন্তু আমি তা করি না। সামনে নির্বাচন দেশের মানুষের জন্য আমি কী করতে চাই সেটা মানুষ জানতে হবে। আমি যদি অন্য মানুষে সমালোচনা করি তাহলে মানুষের পেট ভরবে না। বড় কথা বলে লাভ নেই। বিএনপি ছাড়া কোনো রাজনৈতিক দল জনগণের সামনে কোনো পরিকল্পনা দেয়নি। তারা শুধু বিএনপির বদনাম বলে যাচ্ছে। দেশের জন্য কী করতে পারবে জনগণের জন্য কী করতে পারবে সে ধরনের পরিকল্পনা এখনো কেউ উপস্থাপন করতে পারেনি। কে কী বলল যায় আসে না। আমরা আমাদের পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ করে যাবো।
সমাবেশে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আমিনুর রশীদ ইয়াছিন, কুমিল্লা বিভাগীয় বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যক্ষ সেলিম ভূঁইয়া, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মো. মোস্তাক মিয়া, কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং কুমিল্লা-১১ আসনের প্রার্থী মো. কামরুল হুদা, কেন্দ্রীয় যুবদলের সভাপতি মোনায়েম মুন্না, জাতীয় পার্টির(জাফর) নেতা কাজী নাহিদ প্রমুখ।


Comments
Post a Comment